
নিজস্ব প্রতিবেদক
নরসিংদী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফুলকাম বাদশাকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওঠা ২৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন তিনি। একইসঙ্গে প্রকাশিত সংবাদটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
সম্প্রতি দৈনিক নয়া দিগন্ত ও ডিবিসি নিউজের ফেসবুক পেজসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে ‘কাজ না করে ২৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ-নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশা বহাল তবিয়তে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এক প্রতিবাদলিপিতে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন মোহাম্মদ ফুলকাম বাদশা।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি ‘দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আঞ্চলিক ব্রিজ পুনর্নির্মাণ/পুনর্বাসন প্রকল্পের (আরইবিআরপি)’ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার দাবি, ওই প্রকল্পের অর্থছাড়, বিল প্রদানসহ সব ধরনের আর্থিক ক্ষমতা প্রকল্প পরিচালকের হাতে ছিল। ফলে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে তার পক্ষে কোনো অর্থ উত্তোলন বা আত্মসাতের সুযোগ ছিল না।
ফুলকাম বাদশা আরও দাবি করেন, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান মামলায় তিনি আসামি নন; বরং একজন সাক্ষী হিসেবে নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালে আরইবিআরপি প্রকল্প থেকে বদলি হওয়ার পর ২০২৪ সালের জুলাই মাসে নরসিংদী এলজিইডিতে যোগ দেন। এরপর থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে সততা, নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে প্রতিবেদনে তার সঙ্গে ‘পূর্বের সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটিও অস্বীকার করেছেন ফুলকাম বাদশা। তিনি অভিযোগটিকে ‘মনগড়া, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন।
তার ভাষ্য, একটি ‘কুচক্রী মহল’ অসৎ উদ্দেশ্যে নরসিংদী এলজিইডির ভাবমূর্তি এবং তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
প্রতিবাদলিপির শেষাংশে তিনি প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের প্রতি এ ধরনের ‘বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর’ সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।