
অনলাইন ডেস্ক:
তালাক দিয়ে পুনরায় সংসার করার আশ্বাসে একাধিকবার ধর্ষন এবং সন্তানকে জোরপূর্বক আটকে রাখার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে বরিশাল বন্দর থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছে এক গৃহবধূ। পুলিশ অভিযোগ তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ৯ বছর পূর্বে বরিশাল সদর উপজেলার জিএম ফরহাদ বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়া এলাকার সুখি আক্তারকে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই ফরহাদ অকারণে তার স্ত্রীর উপর শারিরীক ও মানষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলো। গত দুই মাস পূর্বে ফরহাদ তার স্ত্রীকে একটি তালাক নোটিশ পাঠায়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৪ মার্চ তারিখ পুনরায় সাংসারিক জীবন শুরু করার আশ্বাস দিয়ে জিএম ফরহাদ বরিশালের বাসায় এসে রাত্রিযাপন শেষে বড় ছেলে সিফাত নিবিড় (৮) কে সাথে নিয়ে তার কর্মস্থল সিলেটের আজমিরিগঞ্জ-এর নিজ কর্মস্থলে চলে যান। সেখানে গিয়ে ফরহাদ আর স্ত্রী ও পরিবারের সাথে কোনধরণের যোগাযোগ করেনি।
অভিযোগ আরো বলা হয়, এরপর ২০ এপ্রিল ছেলে সিফাতকে আনতে ফরহাদের কর্মস্থল এলাকায় যায় সুখি। সেখানে স্থানীয় গণ্যমান্যদের সহায়তায় তাদের মধ্যকার সমস্যার সমাধান হয়।আজমিরীগঞ্জে ভাড়া বাসায় অবস্থানকালে ফরহাদ সুখী আক্তারের সাথে দুদিন শারিরীক সর্ম্পকে মিলিত হয়। পরে সুখীকে বাসার মালামাল আনার জন্য বরিশালে পাঠিয়ে দেয় ফরহাদ।
গত ১ মে মালামাল নিয়ে আজমিরীগঞ্জে যাওয়ার কথা বললে ফরহাদ তার স্ত্রীকে জানিয়ে দেয় সে আর তার সাথে সংসার করবেনা এবং ছেলেকে ফেরত দেবেনা। ভুক্তভোগী আরো অভিযোগ করেন, ফরহাদ গত দুই মাসে তাকে ও তার শিশু সন্তান ফারিয়া (৪)’র কোন ভরনপোষন দেয়নি এবং বড় ছেলের সাথে কোন ধরণের যোগাযোগও করতে দিচ্ছেনা। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুখী আক্তার বন্দর থানার পাশাপাশি আদালতেও একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। এব্যপারে অভিযুক্ত আজমিরীগঞ্জের খাদ্য গুদামে ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ফরহাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে অসুস্থতার কথা বলে তিনি কিছু বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এব্যাপারে বন্দর থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছেন। অভিযোগ প্রমানিত হলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।